• ঢাকা

  •  রোববার, জানুয়ারি ২৯, ২০২৩

বাংলাদেশ

বিবিসির অনুপ্রেরণাদায়ী ও প্রভাবশালী এক`শ নারীর তালিকায় নান্দাইলের সানজিদা

শাহ্ আলম ভূঁইয়া, বিশেষ প্রতিনিধি

 আপডেট: ২২:১৭, ৭ ডিসেম্বর ২০২২

বিবিসির অনুপ্রেরণাদায়ী ও প্রভাবশালী এক`শ নারীর তালিকায় নান্দাইলের সানজিদা

বিবিসির এক`শ অনুপ্রেরণাদায়ী ও প্রভাবশালী নারীর তালিকায় স্থান পাওয়া শানজিদা ইসলাম ছোঁয়া

ময়মনসিংহ: ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (বিবিসি) ২০২২ সালে বিশ্বের অনুপ্রেরণাদায়ী ও প্রভাবশালী ১০০ নারীর তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় মিউজিশিয়ান, ফার্স্ট লেডি, অভিনেত্রী, নারী অ্যাথলেট, সাংবাদিক, রাজনৈতিকবিদের মতো ব্যক্তিত্বদের নাম রয়েছে। ওই তালিকায় একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে সানজিদা ইসলাম (ছোঁয়া) নামে এক ছাত্রী স্থান পেয়েছেন।

সানজিদা ইসলাম ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের ঝাউগড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের মোঃ আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া সোহেল ও মোছা. লিজা আক্তার দম্পতির একমাত্র মেয়ে। 

সানজিদা কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজে ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে সম্মান প্রথম বর্ষের পড়ছেন। নান্দাইল পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী থাকাকালীন তিনি তার ছয় সাহসী সহপাঠীকে নিয়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ অন্দোলন গড়ে তুলে সাড়া ফেলেছিলেন।

চলতি বছর বিবিসির প্রভাবশালী নারীদের তালিকায় উঠে এসেছে নান্দাইলের সেই সানজিদা ইসলামের নাম। তার আগে রয়েছে ভারতে প্রখ্যাত অভিনেত্রী প্রিয়াংকা চোপড়া জোনস। ওই তালিকায় রয়েছে ইউক্রেনের ফার্স্টলেডির নামও।

এ খবর পেয়ে গতকাল বুধবার  বিকালের দিকে এ প্রতিবেদক সানজিদা ইসলামের বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে সানজিদাকে পাওয়া যায়। তিনি জানান, অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় নান্দাইলের ওয়ার্ল্ড ভিশন এডিপির শিশু ফোরাম ঘাসফুলের সদস্য হয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাটি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নারীর প্রতি সহিংস আচরণের কীভাবে প্রতিবাদ জানাতে হয় সে সম্পর্কে তিনিসহ তার কয়েকজন সহপাঠী প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। পরে দেখতে পান শ্রেণিকক্ষে তার অনেক সহপাঠী অনুপস্থিত। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন অনেকের বাল্যবিয়ে হয়ে গেছে। সানজিদা ভাবলেন এভাবে চলতে থাকলে তিনি একদিন সহপাঠী শূন্য হয়ে পড়বেন। তাই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহপাঠীদের সাথে নিয়ে ২০১৫ সালে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আন্দোলন শুরু করলেন। এই আন্দোলন নান্দাইলের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ছয়জন সহপাঠিসহ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবদুল খালেক, তৎকালীন নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ হাফিজুর রহমান ও স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকে পাশে পেয়েছেন।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের উদ্দীপনা পেয়েছেন মাকে দেখে। তার মায়ের কম বয়সে বিয়ে হয়। এ কারণে তিনি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগতেন। তিনি সেই উপলব্ধি করেছেন। সেটি তাকে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

সানজিদা জানান, সম্প্রতি বিবিসির এক নারী সাংবাদিক তার সাথে কথা বলে স্কুলে ছাত্রী থাকাকালীন সময়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আন্দোলনের খুঁটিনাটি জেনে নিয়েছেন। গত মঙ্গলবার তিনি জেনেছেন বিবিসির তালিকায় তার নাম ছাপা হয়েছে। এ কারণে তিনি আনন্দিত। তার মা লিজা আক্তার ও ছোটভাই সাদমান হাফিজ (লিখন) খুবই খুশি হয়েছে। খুশি প্রতিবেশীরাও।

সানজিদা জানান, বিবিসির তালিকায় তার নাম উঠলেও তিনি তার ছয় সহপাঠীর কথা ভুলেননি। লেখপড়ার কারণে একে অপরের সাথে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছেন। তার সেই ছয় সহপাঠীর নাম উল্লেখ করার জন্য সানজিদা এ প্রতিবেদককে অনুরোধ করেন। তারা হচ্ছেন তুলি দেবনাথ, স্নেহা বর্মণ, লিজুয়ানা তাবাসসুম, জান্নাতুল ইসলাম, জীবননিসা খানম, জান্নাতুল আক্তার।

জানতে চাইলে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মোঃ আবুল মনসুর বলেন, এটা খুশির সংবাদ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে আমার কোনো রকম সহযোগিতার প্রয়োজন হলে আমার পক্ষ থেকে করা হবে।

ডিসেম্বর ৭, ২০২২

এসএবি/এবি/

মন্তব্য করুন: