• ঢাকা

  •  মঙ্গলবার, জুন ১৮, ২০২৪

বাংলাদেশ

অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে করা রিট খারিজ, সব মামলা চলবে ট্রাইব্যুনালে

অনলাইন ডেস্ক:

 আপডেট: ১৬:৩০, ৮ জুন ২০২৩

অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে করা রিট খারিজ, সব মামলা চলবে ট্রাইব্যুনালে

ঢাকা: অর্পিত সম্পত্তি আইনের ধারা ৯, ১৩ ও ১৪-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আনা দুটি রিট খারিজ করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে সব মামলা এখন থেকে ট্রাইব্যুনালে চলবে।

বৃহস্পতিবার (৮ জুন) বিচারপতি নাইমা হায়দারের নেতৃত্বে তিন বিচারপতি সমন্বয়ে গঠিত বৃহত্তর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। 

বেঞ্চের অপর দুই বিচারপতি হলেন - বিচারপতি সহিদুল করিম ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ আদালতের রায়ের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান। 

তিনি বলেন, আদালত রায়ে বলেন, অর্পিত সম্পত্তি আইনের ৯, ১৩ ও ১৪ ধারা সংবিধান পরিপন্থি নয়। আজ এ নিয়ে আনা পৃথক দুটি রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে ইতোপূর্বে জারি করা রুল ডিসচার্জ করে রায় দেন হাইকোর্টের একটি লার্জার (বৃহত্তর) বেঞ্চ।

তিনি জানান, অর্পিত সম্পত্তি জেলা প্রশাসকের অধীনে থাকবে এবং জেলা প্রশাসক প্রয়োজনে লিজ দিতে পারবেন। এ ছাড়া এ সংক্রান্ত সব মামলার আবেদন অর্পিত সম্পত্তি ট্রাইব্যুনালে দাখিল করতে হবে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী। ভূমি মন্ত্রণালয়ের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। জেলা প্রশাসনের পক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্ত।

অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ জানান, আজকের এ রায়ের ফলে অর্পিত সম্পত্তির তদারকি ও লিজ দেওয়ার ক্ষমতা জেলা প্রশাসকদের হাতেই রইল এবং এ সংক্রান্ত মামলা কেবল অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালেই দায়ের করার বাধ্যবাধকতা তৈরি হলো।

অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত কতিপয় সম্পত্তি বাংলাদেশি মূল মালিক বা তাহার বাংলাদেশি উত্তরাধিকারী বা এদের বাংলাদেশি স্বার্থাধিকারীর নিকট প্রত্যর্পণ সম্পর্কে বিধান প্রণয়ন করে ‘অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন-২০০১’ পাস করা হয়।

২০০১ সালের অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের ৯ ধারায় প্রত্যর্পণযোগ্য সম্পত্তির তালিকা প্রকাশ করার বিষয়ে বলা আছে।

আইনের ১৩ ধারায় প্রত্যর্পণযোগ্য সম্পত্তিসংক্রান্ত মামলার অ্যাবেটমেন্ট (বাতিল) কার্যধারা বন্ধ ও ট্রাইব্যুনালে দাবি উত্থাপন বিষয়ে বলা আছে। ধারাটির ভাষ্য, ‘সরকারি গেজেটে প্রকাশের তারিখে যদি কোনো আদালতে এমন দেওয়ানি মামলা অনিষ্পন্ন থাকে, যা ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত কোন সম্পত্তিতে স্বত্ব দাবি করে বা তা অর্পিত সম্পত্তি মর্মে দাবি করে কোনো প্রতিকার প্রার্থনা করা হলে মামলায় সম্পত্তির যতটুকু জড়িত, ততটুকু বাবদ মামলাটি আপনা–আপনি অ্যাবেটেড (বাতিল) বলে গণ্য হবে।’

আর ১৪ ধারায় প্রত্যর্পণযোগ্য সম্পত্তি জেলা প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণ ও অস্থায়ী ইজারা প্রদান বিষয়ে বলা আছে।

এ আইনের ধারা ৯, ১৩ ও ১৪ সংবিধান পরিপন্থী দাবী করে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খুলনার শ্যামল কুমার সিংহ এবং চট্রগ্রামের মোঃ মশিউর রহমান ২০১২ সালে দুটি রিট করেন। এ রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে তখন হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলে। ওই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ হাইকোর্ট রায় দেন।

জুন ৮, ২০২৩

এসবিডি/এবি/

মন্তব্য করুন: