• ঢাকা

  •  সোমবার, ডিসেম্বর ৫, ২০২২

জেলার খবর

নান্দাইলে মধ্যরাতে ফিল্মি স্টাইলে দুর্ধর্ষ ডাকাতি

রিপন চন্দ্র বর্মণ, নান্দাইল প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৭:২১, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

নান্দাইলে মধ্যরাতে ফিল্মি স্টাইলে দুর্ধর্ষ ডাকাতি

ছবি: সময়বিডি.কম

নান্দাইল (ময়মনসিংহ): নান্দাইল বাজারে মধ্যরাতে পাহাড়াদারদের বেধে চিনি মহাল মোড়ের কাছে দুইটি জুয়েলারি দোকান ও জুয়েলারি দোকানের পাশে ফলের দোকানে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটের দিকে বোমা ফাটিয়ে ‘ফিল্মি স্টাইলে’ স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি হয়। ডাকাতির সময় প্রত্যক্ষদর্শী মহাদি হাসান ফল ভান্ডারের মালিক আঞ্জু মিয়া ফলের দোকানে ছিলেন।

আঞ্জু মিয়া সময়বিডি.কম-কে বলেন, আমার ফলের দোকানে রাতে মালামাল আসার কথা।  রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটের দিকে আমি আমার মহাজনের সাথে ফোনে কথা বলার শব্দ শুনে ডাকাতদলের দুই সদস্য আমার দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে থেকে আমাকে টেনে বাইরে বের করে। পরে সামনে পাঁচজন পাহারাদার ও দুইজন পথচারীর সাথে আমাকেও নিয়ে বেঁধে রাখে।

তিনি বলেন, কিছুক্ষণ পর সিএনজিতে করে ডিউটিতে থাকা পুলিশ বাজারের ভিতরে আসে। পুলিশ সদস্যরা আমাদেরকে বাঁধা অবস্থায় দেখে কাছে আসার চেষ্টা করলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ডাকাতদলের দুই সদস্য দুইটি হাতবোমা নিক্ষেপ করে এতে বিকট শব্দ হয় এবং প্রচুর ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এর পরও পুলিশ সদস্যরা আমাকে উদ্ধার করে আমার হাতে-পায়ে বাধা রশি খুলে দেয়। ঠিক তখন ওই পুলিশের দিকে আরো একটি ককটেল নিক্ষেপ করে ডাকাতদল পালিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, ককটেল বিস্ফোরণের ফলে অতিরিক্ত মাত্রায় ধুয়া হলে, ডাকাতদল কোনদিকে চলে গেছে আমরা কেউই তা বুঝতে পারিনি। তবে ডাকতের দলে ১৫-২০ জন সদস্য হবে। ডাকাতের দুই সদস্য আমাকে আমার দোকান থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করার সময় আমার দোকানের কাছে থাকা নগত ১১ হাজার ৩৫০ টাকা নিয়ে যায়।

আঞ্জু মিয়া আরো বলেন, আমার দোকানের পাশেই আব্দুল মতিন মীরের মুক্তা জুয়েলার্সে এবং বিসমিল্লাহ জুয়েলার্সে ডাকাতি করে।

মুক্তা জুয়েলার্সে মালিকের সাথে কথা বললে তিনি সময়বিডি.কমকে বলেন, গতকাল রাতে বাজার থেকে রাত ৩টার সময় ফোন দিয়ে বলে আমার দোকানে ডাকাতি হয়েছে। আমি তাৎক্ষণিক আমার দোকানে এসে দেখি আমার দোকানের সিন্ধুকে থাকা চার ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার ও ৪০-৫০ ভরি ওজনের রুপার তৈরি বিভিন্ন গহনা নেই। ক্যাশ ভাঙা। 

বিসমিল্লাহ জুয়েলার্সের মালিক মোঃ রফিকুল ইসলামের সাথে এ বিষয়ে কথা বললে তিনি বলেন, আমার দোকানে প্রায় ১৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ছিল ও রুপা ৫০ ভরির মতো ছিল। আর নগদ অর্থ ছিল সাড়ে চার লাখ টাকা। 

এই বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান আকন্দ সময়বিডি.কমকে জানান, মামলা প্রকৃয়াধীন রয়েছে। তাছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই বিষয়ে তৎপর আছে। অনতিবিলম্বে অপরাধীদের সনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২২

আরসিবি/এবি/

মন্তব্য করুন: