• ঢাকা

  •  সোমবার, ডিসেম্বর ৫, ২০২২

অপরাধ

পাবনায় গৃহবধূ হত্যার দায়ে যুবকের মৃত্যুদণ্ড

পাবনা প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৬:৫৬, ২৮ আগস্ট ২০২২

পাবনায় গৃহবধূ হত্যার দায়ে যুবকের মৃত্যুদণ্ড

ছবি: সময়বিডি.কম

পাবনা: ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে এক গৃহবধূকে হত্যার দায়ে পাবনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক টুটুল হোসেন (৪০) নামের এক যুবককে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন। এ ছাড়াও একই মামলায় ভিকটিমকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে ৫ বছর কারাদণ্ড অনাদায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং লাশ গুমের দায়ে দুই বছর অনাদায়ে আরও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

জেলার সাঁথিয়া উপজেলায় আলেয়া খাতুন নামের এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় এই রায় দেন আদালত।

রবিবার (২৮ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাবনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মিজানুর রহমান এই রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি টুটুল উপজেলার চর পাইকারহাটি গ্রামের আতাহার মল্লিকের ছেলে। আর নিহত আলেয়া খাতুন একই গ্রামের আরদোশ মল্লিকের স্ত্রী। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১ নভেম্বর দুপুরে গৃহবধূ আলেয়া খাতুন বাড়ির পাশে লাকড়ি কুড়ানো ও জমি দেখতে যান। এ সময় টুটুল তাকে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। কিন্তু আলেয়া খাতুনের জবরদস্তির কারণে ব্যর্থ হয়ে তাকে শাড়ি দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ ধানক্ষেতে লুকিয়ে রাখে। এদিন রাত ৩টার দিকে লাশ ফের ধানক্ষেতের আরো দূরে লুকিয়ে রাখে। এ ঘটনায় একই বছরের ৬ নভেম্বর সন্দেহজনকভাবে টুটুলকে পুলিশ আটক করে। পরে আদালতের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয় এবং তার দেয়া তথ্য মতে লুকিয়ে রাখা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহত আলেয়া খাতুনের মেয়ে সাবানা আক্তার বাদী হয়ে সাঁথিয়া থানায় টুটুলের বিরুদ্ধে ৭ নভেম্বর একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা সাঁথিয়া থানার এসআই রাশেদুল ইসলাম। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ১৩ জনের স্বাক্ষ্যগ্রহণের পর রায় ঘোষণা করা হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী চোধুরী রাজিয়া সুলতানা টুলটুলি জানান, ‘আমরা সংক্ষুব্ধ। কারণ আমরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবো। আশাকরি আমার মক্কেল সেখানে ন্যায় বিচার পাবেন এবং নির্দোষ প্রমাণিত হবেন।'

তবে রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট খন্দকার আব্দুর রকিব। তিনি বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি দৃষ্টান্তমূলক রায়। আশাকরি আইনি প্রক্রিয়া শেষে খুব দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে।

আগস্ট ২৮, ২০২২

আইকেআর/এবি/

মন্তব্য করুন: