• ঢাকা

  •  রোববার, জানুয়ারি ২৯, ২০২৩

ভিনদেশ

চট্টগ্রামের কুখ্যাত সন্ত্রাসী ম্যাক্সনের কলকাতায় রহস্যজনক মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক:

 প্রকাশিত: ১০:৩১, ১ ডিসেম্বর ২০২২

চট্টগ্রামের কুখ্যাত সন্ত্রাসী ম্যাক্সনের কলকাতায় রহস্যজনক মৃত্যু

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী শিবির ক্যাডার ম্যাক্সনের কলকাতায় অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) রাতে হরিদেবপুর থানার অন্তর্গত ১৬৪নং মতিলাল গুপ্ত রোডের একটি বহুতল ভবন থেকে তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। ওড়নার সঙ্গে সিলিং ফ্যানে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে তিনি।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় হরিদেবপুরে। দ্রুত ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নূর-উন লতিফ নবী  বেশ কিছুদিন ধরে কলকাতায় বসবাস শুরু করেছিলেন তিনি। ২৯ নভেম্বর রাত ১০টা ১০মিনিট নাগাদ জনৈক বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী হরিদেবপুর থানায় এই ঘটনা সম্পর্কে জানান। পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হরিদেবপুরের মতিলাল গুপ্ত রোড এলাকায় বসবাস ছিল নূর- উন লতিফ নবীর। তবে গতকাল রাতে তার ঘরে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সেই সময় তার গলায় একটা লাল রঙের ওড়নার ফাঁস ছিল। আর সেই ওড়নার অপরপ্রান্তটি বাধা ছিল সিলিং ফ্যানের সঙ্গে। তড়িঘড়ি তাকে উদ্ধার করে এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।

পুলিশ সূত্র মারফত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নূর নবী ওই এলাকায় বসবাস করছিলেন অর্পিতা হাজরা নামে এক মহিলার সঙ্গে। ২০২২ সালের এপ্রিল মাস থেকে ওই এলাকায় একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন অর্পিতা এবং নূর নবী। জানা যায়, বর্তমানে নূর নবী বেকার ছিলেন এবং তিনি প্রচন্ডভাবে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। যার কারণে বেশ কিছুদিন ধরে ভুগছিলেন মানসিক অবসাদে।

অর্পিতা গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৫ মিনিটে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান নিজের কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে। তিনি বাড়ি ফিরে আসেন রাত পৌনে নয়টায়। সে সময় তিনি দেখেন তাদের ঘরের কাঠের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করা রয়েছে। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরেও কোনো রকম সাড়াশব্দ না মেলায় দরজা ভাঙা হয় প্রতিবেশীদের সহযোগিতায়। এরপর দরজা ভাঙতেই দেখা যায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে তার দেহ। 

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতে সিআইডি আটক করে নূর নবীকে। জেরা করায় একাধিক তথ্য উঠে এসেছিল। তার বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। এ ছাড়াও তার সঙ্গে কোনো টেরোরিস্ট গ্রুপের যোগাযোগ রয়েছে কি-না সে বিষয়েও তদন্ত শুরু করেছিল সিআইডি।

সিআইডি সূত্রে খবর, ম্যাক্সন ভারতে গিয়ে তমাল চৌধুরী নামে পাসপোর্ট বানায়। পাসপোর্টটির ২০২১ সালের ১৫ জুলাই থেকে ২০৩১ সালের ১৪ জুলাই পর্যন্ত ভ্যালিডিটি ছিল।

সিআইডি সূত্রে খবর, নূরের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের পাঁচলাইস থানা, বায়োজিদ বোস্তামি থানা, চান্দগাঁও থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। ধৃত নূর বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যায় ওমানে। ওমানে রং মিস্ত্রির কাজ করতো। কিন্তু বছর কয়েক আগে ওখানে তার সঙ্গী সারওয়ার ধরা পড়ার পর ওমান এয়ারপোর্ট থেকে পালিয়ে যায় নূর। প্রথম লকডাউনের সময়ে সে চলে আসে কলকাতায় নিউ মার্কেট এলাকায়। এখানে এসে নাম বদলে তমাল চৌধুরী নাম নিয়ে থাকতে শুরু করে। নিউ মার্কেটে মাছ বিক্রি করত সে।

তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একাধিক থানায় ১১টি হত্যা মামলাসহ চাঁদাবাজি, ডাকাতি, লুটের মতো একাধিক ধারায় মামলা রয়েছে। 

এসবিডি/এবি/

মন্তব্য করুন: