• ঢাকা

  •  সোমবার, ডিসেম্বর ৫, ২০২২

জেলার খবর

চাটমোহরে শতাধিক বাড়ির উপর দিয়ে বৈদ্যুতিক তার, ঝুঁকি নিয়ে বসবাস

পাবনা প্রতিনিধি:

 প্রকাশিত: ১৮:১৭, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

চাটমোহরে শতাধিক বাড়ির উপর দিয়ে বৈদ্যুতিক তার, ঝুঁকি নিয়ে বসবাস

চাটমোহরে ছাইকোলা গ্রামের শতাধিক টিনশেড বাড়ির উপর দিয়ে গেছে  বৈদ্যুতিক তার। ছবি: সময়বিডি.কম

পাবনা: পাবনার চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা (সরদার পাড়া) গ্রামের প্রায় একশ’ পরিবারের পাঁচশ’ মানুষ প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন। তাদের বাড়ি-ঘরের উপর দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন নির্মিত হওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বৈদ্যুতিক তারে নেই কোন প্লাষ্টিকের আবরণ। টিনের ঘরের উপর দিয়ে বৈদ্যুতিক লাইন থাকায় যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরণের দূর্ঘটনা।

ভূক্তভোগী এলাকাবাসীরা জানান, নব্বইয়ের দশকে এই বৈদ্যুতিক লাইনটি নির্মাণ করে পাবনা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১। ঘনবসতিপূর্ণ এ এলাকার অধিকাংশ মানুষ অশিক্ষিত। তখন এর বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে সচেতন ছিলেন না তারা। বাড়িগুলোর দক্ষিণপাশ দিয়ে সরকারি রাস্তা থাকলেও রাস্তার পাশ দিয়ে বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণ না করে ঘর, বাড়ি, উঠােনের উপর দিয়ে বৈদ্যুতিক লাইনটি নির্মাণ করা হয়। 

জনসংখ্যা বাড়ায় পরে বৈদ্যুতিক লাইনের নিচেই ঘর তৈরি করতে বাধ্য হন অনেকে। ঘরবাড়ির উপর দিয়ে তার যাওয়ায় কোনোরকম গাছও লাগাতে পারেন না তারা। কেউ কেউ কিছু গাছ লাগালেও তা বড় হতে না হতেই বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন কেটে দেন।

ছাইকোলা সরদার পাড়ার শহিদুল ইসলাম শহিদের মেয়ে সুমি খাতুন সময়বিডি.কম-কে জানান, টিনের ঘরের উপর দিয়ে বৈদ্যুতিক তার যাওয়ায় আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। ঝড়বৃষ্টির সময় আতঙ্ক বেড়ে যায়। 

রাজেদা খাতুন জানান, তার ঘরের চাল ছুয়ে সাতটি ড্রপ তার গেছে। যে কোনো সময় বিপদের সম্ভাবনা রয়েছে। 

আতাহার সরদার জানান, আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ বছর আগে লাইনটি নির্মিত হয়েছে। তখন এর কুফল বুঝি নাই। কিন্তু এখন কোন কূলকিনারা পাচ্ছিনা। সব সময় ভয়ে থাকি, কখন কি হয়ে যায়। 

খবির উদ্দিন মাস্টার, জান্নাত হোসেন ও কলেজশিক্ষক হাসিনুর রহমান উজ্জ্বল জানান, এ পাড়ার বাড়িগুলোর উপর দিয়ে বৈদ্যুতিক তার যাওয়ায় মানুষ স্থাপনা তৈরি করতে পারছে না। তারে কোনো আবরণ না থাকায় ঝড়বৃষ্টির সময় তার গাছের ডাল বা পাতার সংস্পর্শে এলে আগুন ধরে যায়। প্রতিকার পেতে, জানমাল রক্ষার্থে বৈদ্যুতিক লাইনটি রাস্তার পাশে সড়িয়ে স্থাপন করতে বিদ্যুৎ বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভূক্তভোগীরা।

এ ব্যাপারে পাবনা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার আকমল হোসেন সময়বিডি.কম-কে জানান, ইতোপূর্বে নির্মিত এ বৈদ্যুতিক লাইনগুলো স্থানান্তরের জন্য কোন তহবিল নাই। গ্রাহক অসুবিধা মনে করলে বৈদ্যুতিক লাইনটি স্থানান্তরের আবেদন করলে প্রকৌশলী পাঠিয়ে তদন্ত করে কতো টাকা খরচ হবে চিঠি দিয়ে গ্রাহকদের জানানো হবে। প্রয়োজনীয় টাকা জমা দিলে টেন্ডার প্রক্রিয়ার পর ঠিকাদারের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক লাইনটি স্থানান্তর করা হবে। আইনের আওতায় থেকে ভূক্তভোগীদের যতটুকু সহায়তা করা যায় তা করা হবে। 

সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২

ইকবাল কবীর রনজু/এবি/

মন্তব্য করুন: