• ঢাকা

  •  রোববার, জানুয়ারি ২৯, ২০২৩

ফিচার

নবাব সিরাজউদ্দৌলা পুত্রের মাধ্যমে গড়ে ওঠা একটি শহর:

গৌরীপুরের ২৫৩তম প্রতিষ্ঠা দিবস ১ জানুয়ারি

মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার

 আপডেট: ১১:০১, ১ জানুয়ারি ২০২৩

গৌরীপুরের ২৫৩তম প্রতিষ্ঠা দিবস ১ জানুয়ারি

ময়মনসিংহের গৌরীপুরের ২৫৩তম প্রতিষ্ঠাদিবস ১ জানুয়ারি। বাংলা ১১৭৬ ও ইংরেজি ১৭৭০ সালে বোকাইনগরের কাছে গৌরীপুর নামে একটি শহর বা বন্দর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মোমেনসিং ও জাফরশাহী পরগানার জায়গীরদার, গৌরীপুরের বারেন্দ্র ব্রাহ্মণ জমিদারদের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীকৃষ্ণ চৌধুরী, তার দত্তক নাতনী (তার ছেলে কৃঞ্চগোপালের দত্তক পুত্র) ও নবাব সিরাজের অপর স্ত্রী আলেয়া (হীরা বা মাধুবী) এবং তাঁর গর্ভে জন্ম নেওয়া পুত্র সন্তান গৌরীপুর রাজবাড়ির প্রতিষ্ঠাতা জমিদার যুগল কিশোর রায় চৌধুরী মোমেনসিং পরগণার এজমালি সম্পত্তি থেকে গৌরীপুর শহর বা বন্দর পত্তন করেন।

ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি অ্যান্ড লাইব্রেরি-এর উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গৌরীপুর দিবস ও ২৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্বর্ণখনি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা। ময়মনসিংহ জেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার পূর্ব দিকে গৌরীপুর উপজেলা সদরের অবস্থান এবং গৌরীপুর শহর থেকে বোকাইনগর দুর্গের ধ্বংসাবশেষসহ মূল কেন্দ্র ৩ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। রেনেলের মানচিত্রে পূর্ব ময়মনসিংহের বিশাল মোমেনসিং পরগনার ভূখন্ডের মধ্যে গৌরীপুর উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হয়।

এদিক থেকে রেনেলের মানচিত্রে তৎকালীন গৌরীপুর এলাকার দিকে দৃষ্টি দিলে গৌরীপুর নামে কোনো জনপদ বা স্থানের নাম পাওয়া যায় না; বরং বোকাইনগরসহ কয়েকটি স্থানের নাম পাওয়া গেছে। এই সব উদাহরণ থেকে এটাই প্রমাণ করে গৌরীপুর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যুগল কিশোরের আমলে। এক সময়ে বোকাইনগরের নিজামাবাদ ৭০০ বছরের অধিক নদীবন্দরকেন্দ্রিক শহর ছিল। তাছাড়া সুদূর অতীতে বোকাইনগর মোমেনসিং পরগনার রাজধানী ছিল।

ছিয়াত্তরের মন্বন্তরে যুগলকিশোর রায় চৌধুরীর জাফরশাহী পরগনা ত্যাগ ও মোমেনসিং পরগায় আগমন:

জমিদার যুগলকিশোর রায় চৌধুরী জাফরশাহী পরগনা অর্থাৎ জামালপুরের কৃষ্ণপুর হতে (বাংলা ১১৭১, ইংরেজি ১৭৬৫ সাল হতে বাংলা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর, ইংরেজি ১৭৭০ সাল পর্যন্ত জমিদারি করে আসছিলেন। ১৭৭০ সালের মহামারীর ফলে তিনি জাফরশাহী পরগনা ত্যাগ করে মোমেনসিং পরগায় এসে গৌরীপুর কাছারি নামে একটি শহর বা বন্দর প্রতিষ্ঠা করেন।

জামালপুরের ভয়াবহ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর সম্মন্ধে উপলদ্ধ হয় যে, ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বাংলার ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ নামে পরিচিত। ১১৭৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৭৭০) এই দুর্ভিক্ষ হয়েছিল বলে একে 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' বলা হয়।  অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার কারণে জনমানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছে। বাংলায় পরিণতিতে মারাত্মক দুর্ভিক্ষপীড়িত এলাকাগুলি হয়ে পড়ে জনশূন্য। জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ  প্রায় এক কোটি মানুষ দুর্ভিক্ষে মারা যায়। 

রামগোপালপুর জমিদার শ্রী শৌরীন্দ্র্রকিশোর রায়চৌধুরীর ১৯১১ সালে প্রকাশিত ‘ময়মনসিংহের বারেন্দ্র ব্রাহ্মণ জমিদার’ গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে যে, ‘‘যুগলকিশোরের কৃষ্ণপুর ত্যাগ: যুগলকিশোর বহু অর্থ ব্যয় করিয়া প্রজাগণের চিকিৎসা ও শুশ্রূষার সুব্যবস্থা করিলেন বটে, কিন্তু তথাপি বহু সংখ্যক লোক প্রাণত্যাগ করিল। যাহারা বাঁচিল তাহারা দেশত্যাগকেই জীবনরক্ষার প্রশস্ত উপায় বলিয়া স্থির করিল। অল্পদিনের মধ্যেই যুগলকিশোরের ভৃত্য, পরিচালক, কর্মচারীগণের মধ্যে অনেকেই পলাইল। এই অস্বাস্থ্যকর জলবায়ুর মধ্যে বাস করা যুক্তিযুক্ত নহে বলিয়া তাহারও ধারণা হইল। তখন দেশত্যাগ করাই স্থির হইল। অবিলম্বেই বাসস্থান নির্বাচিত হইল, যাত্রার উদ্যোগ আয়োজন আরম্ভ হইল। বৃহৎ বৃহৎ নৌকা আসিয়া কৃষ্ণপুরের ঘাটের শোভাবর্ধন করিল। ধন, রত্ন, দ্রব্য সামগ্রী ও পরিবার পরিজনসহ নৌকায় উঠিয়া যুগলকিশোর ময়মনসিংহ (মোমেসিং) পরগণার নির্বাচিত বাসস্থান গৌরীপুরের’ অভিমুখে যাত্রা করিলেন। যথা সময়ে তাহাদের নৌকাগুলি গৌরীপুরের নিকটস্থ বালুয়াঘাটে উপস্থিত হইল। গৌরীপুরের বাটি তখনও সম্পূর্ণ বাসোপযোগী না হওয়াতে তাহারা কয়েকদিন নৌকা মধ্যে বাস করিতে বাধ্য হইয়াছিলেন। বাটি নির্মাণ একরূপ শেষ হইলে শুভদিনে যুগলকিশোর রায় জ্যেষ্ঠতাত পত্নীদ্বয়সহ গৌরীপুরের বাটিতে প্রবিষ্ট হইলেন। গৌরীপুর ঐ সময়ে বন জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল, কতিপয় নিচ জাতীয় লোক মাত্র গ্রামের অধিবাসী ছিল। যুগলকিশোর রায়ের আগমনে গৌরীপুর জনকোলাহলে মুখরিত হইয়া উঠিল। বনজঙ্গল পরিষ্কৃত হইল; বহু সংখ্যক বাসগৃহ নির্মিত হইল। যুগলকিশোর রায় নিরাপদ নিশ্চিন্ত হইয়া বিষয়কর্মে নিবিষ্ট হইলেন।’’

উপমহাদেশের বিখ্যাত স্থান ও প্রাচীন নদীবন্দর বোকাইনগর:

গৌরীপুর শহর ও রাজবাড়ি যখন পত্তন হয় তখন রেনেলের অংকিত মানচিত্রে বোকাইনগর ছিল ঈশ্বরগঞ্জসহ গৌরীপুরের প্রাচীন শহর ও বিখ্যাত নদীবন্দর। এটি  ছিল সাতশ' বছরের অধিক ইতিহাসখ্যাত নদীবন্দর ও বিখ্যাত স্থান।

শত শত বছরের প্রামাণ্য ইতিহাস রয়েছে এখানে। এ রকম প্রাচীন ও সুস্পষ্ট ইতিহাস তুলে ধরার জন্য ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন ও দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর পেন অ্যাওয়ার্ড এফেয়ার্স কাজ করছে। সংগঠনের মাধ্যমে অজানাকে জানার জন্য ইতিহাসের অপ্রকাশিত অধ্যায়, তথ্যসূত্র, জনশ্রুতি, প্রাচীন মানুষের কথা,  ঝরেপড়া অপ্রকাশিত তথ্য সংগ্রহ, প্রাচীন দুর্লভ তথ্য ও প্রাচীন মানচিত্র সংগ্রহ ও গবেষণার মাধ্যমে আপডেট ইতিহাস রচনা করা হয় বা হয়ে থাকে। প্রামাণ্য দলিল হিসেবে এসিক এসোসিয়েশন ও ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় প্রতিবছর একটি স্বনামধন্য আঞ্চলিক তথ্যবহুল ম্যাগাজিন ‘পেন অ্যাওয়ার্ড এফেয়ার্স’ প্রকাশিত হয়। ম্যাগাজিনে প্রকাশিত কয়েকটি রেনেলের মানচিত্র ঘাটলে দেখা যায়, মানচিত্রগুলোতে বোকাইনগর নামটি কমন রয়েছে। শত বছর আগে রামগোপালপুরের জমিদার শৌরীন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরীর লেখা প্রমাণ করে যে, বোকাইনগর ছিল প্রাচীন শহর এবং গৌরীপুর ছিল নব্য শহর। 

বোকাইনগর সম্বন্ধে তার কিছু উদ্ধৃতি দেওয়া হলো - ‘‘কেল্লার ভিতর দিয়া যে নদী প্রবাহিত হইত, তাহার উপরিস্থ একটি সেতুর ভগ্নাবশেষ এখনও বিদ্যমান রহিয়াছে। যে স্থানে উহা অবস্থিত সে স্থানে নদী এখন শুষ্ক হইয়া গিয়াছে। সেতুটি প্রাচীন বলিয়াই বোধ হয়। উহার প্রায় তিন ভাগ ভূগর্ভে প্রোথিত হইয়া গিয়াছে। বিগত ভূমিকম্পে স্থানে স্থানে ফাটিয়া গেলেও উহার সুদৃঢ় নির্মাণপ্রণালী প্রশংসনীয়। মুসলমানাধিকারে আসিয়া বোকাইনগর শ্রীসম্পন্ন হইয়াছিল। কিল্লাদারের ও স্থানীয় অর্থশালী ব্যক্তিগণের উৎসাহে নানাবিধ শিল্পেরও বহুল উন্নতি হইয়াছিল। তৎকালে ওই স্থানের কাপড়, বেত্রের কারুকার্য ও নানাবিধ সুচিকার্য এ অঞ্চলে বিশেষ প্রসিদ্ধি লাভ করে। এখনও খলিফাপট্টি, লেনেপট্টি, তামাকপট্টি প্রভৃতি নাম পূর্ব গৌরবের পরিচায়ক, কয়েক ঘর তন্তুবায় অদ্যাপিও এখানে বস্ত্র বয়ন দ্বারা জীবিকানির্বাহ করিয়া আসিতেছে। বর্তমান সময়ে এ স্থানের পূর্ব শিল্প-গৌরব-বৈভব পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হইয়াছে।’’ (সূত্র : শ্রী শৌরীন্দ্র্রকিশোর রায়চৌধুরী, জাহ্নবী, চতুর্থ বর্ষ, পৌষ ১৩১৫)।

গৌরীপুর উপজেলার বোকাইনগর ও কেল্লা তাজপুরে যে দু'টি দুর্গ ছিল তা সরাসরি নবাব দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ শুরু হওয়ার সময়ে দুর্গ দু'টি ধ্বংস হতে থাকে। শিশু যুগলকিশোর অর্থাৎ সিরাজ-আলেয়ার ছয় বছরের শিশুপুত্রকে নিয়ে মুর্শিদাবাদ ত্যাগ করেন সেনাপতি মোহনলাল। সঙ্গে ছিলেন তাঁর অত্যন্ত দুই সহচর বাসুদেব এবং হরনন্দ। তাঁরা রাজশাহীর পদ্মা নদী পেরিয়ে ময়মনসিংহের বোকাইনগরের দুর্গে আশ্রয় গ্রহণের জন্য চলে আসেন। সেই জায়গাটিও নিরাপদ মনে না হওয়ায় নাটোরের আমহাটি গ্রামে বাসুদেবের কাকার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। বোকাইনগর বাসাবাড়ি ছিল মোমেনসিং ও জাফরশাহী পরগানার জায়গীরদার শ্রীকৃষ্ণ চৌধুরীর প্রধান কাছারি ও কাননগো অফিস। এ সময় তিনি সপরিবারে বসবাস করতেন দিনাজপুর-বগুড়ার করৈ বাড়িতে। পরবর্তী সময়ে ময়মনসিংহের প্রতাপশালী জমিদার যুগলকিশোর রায়চৌধুরী জাফরশাহী পরগনা থেকে গৌরীপুরে আসার পর জামালপুরের মালাঞ্চ থেকে শ্রীকৃষ্ণ চৌধুরীর ছেলে লক্ষীনারায়ণ সপরিবারে বাসাবাড়িতে চলে আসেন। এই সব ইতিহাস থেকে সুস্পষ্ট ধারণা হয় যে, সেনাপতি মোহনলালের স্বপ্ন ছিল খাজা উসমান খাঁর মতো বোকাইনগরে একটি স্বাধীন রাজ্য গঠন করা এবং ভাগ্নেকে পুনরায় নবাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। 

সুদূর অতীতকাল থেকে আমাদের এই বঙ্গদেশে যে কয়জন বীর শাসক তাদের শৌর্যবীর্য, সাহস ও অপূর্ব রণকৌশলের জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন পাঠান সেনাপতি খাজা উসমান খান লোহানী তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি ছিলেন বাংলার সর্বশেষ পাঠান সর্দার ও শাসক। মোঘল সাম্রজ্যের ঘোরতর প্রতিদ্বন্ধী এই বীর যোদ্ধা বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও দক্ষিণ সিলেটে রাজত্ব করেন। ময়মনসিংহের গৌরীপুরের বোকাইনগর এলাকায় ছিল তাঁর রাজ্যের রাজধানী। সাহস, বীরত্ব ও অসাধারণ রণকৌশলের জন্য জন্য তাঁকে বাংলার ইতিহাসে সবচেয়ে রোমাণ্টিক ব্যক্তিত্ব বলে মনে করা হয়। বাহারিস্থান-ই-গায়বী, তুজুক-ই-জাহাঙ্গীরী এবং আকবর নামার মতো বিখ্যাত গ্রন্থে তাঁর জীবনী লিপিবদ্ধ রয়েছে। মোটকথা, রোমাণ্টিক হিরো খাজা উসমানের স্মৃতিচিহ্ন গৌরীপুর উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নে কেল্লার মাটির স্তুপ বিদ্যমান রয়েছে। 

বোকাইনগর সম্পর্কে অনেক ইতিহাসবিদ লিখেছেন। প্রায় সব ক্ষেত্রেই ঐতিহাসিক সময়কার ইতিবৃত্ত তুলে ধরা হয়েছে। শৌরীন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরীর লেখা ‘ময়মনসিংহের বারেন্দ্র ব্রাহ্মণ জমিদার’ গৌরীপুর হতে বোকাইনগর পর্যন্ত একটি সড়কের কথা বর্ণনা করা হয়েছিল। উনি গ্রন্থটিতে জমিদারের বংশ কাহিনি ও উৎপত্তি লিখে গেছেন। যুগলকিশোরের ধর্মীয় কীর্তি ছিল তার আত্মগোপনের কৌশল। গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে যে, ‘বোকাইনগরে ১৭০৭ শকাব্দে (খ্রিস্টাব্দের ৭৮ বছর পরে অর্থাৎ ১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দে) রাজরাজেশ্বরী কালীমূর্তি ও দ্বাদশটি শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন। এই অধিষ্ঠাত্রী মহাদেবীর সেবার জন্য বার্ষিক আট হাজার টাকা আয়ের উপযুক্ত ভূসম্পত্তি উৎসর্গ করিয়া তিনি দানশীলতা ও ধর্ম-প্রাণতার পরিচয় দিয়াছেন। কত অতিথি এই দেবালয়ের আশ্রয় পাইয়া সেই স্বর্গগত মহাত্মার পুণ্য প্রতিষ্ঠা বৃদ্ধি করিতেছে। তিনি বোকাইনগর হইতে নিজ বাটি (গৌরীপুর) পর্যন্ত দুইধারে দেবদারু বৃক্ষরোপণ করিয়া একটি রাস্তা প্রস্তুত করিয়াছেন। ইহা ছাড়া নেত্রকোণায় একটি কালীমূর্তি ও জফরশাহীতে রাধামোহন বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন। রাধামোহন বিগ্রহ কৃষ্ণপুরে বাস করাকালীন প্রতিষ্ঠা করেন। গৌরীপুরে ও জমিদারির মধ্যে বহু স্থানে তাহার প্রতিষ্ঠিত জলাশয় এখনও তাহার পরার্থপরতার মহিমা বিস্তার করিতেছে।’ বেকাইনগর রাস্তার ধারে ২৪০ বছর আগে বৃক্ষরোপণ করা ১০/১২টি দেবদারু গাছ এখনও তাকে অমর করে রেখেছে। এতো প্রাচীন দেবদারু গাছ বাংলাদেশে অন্য কোথাও আছে কিনা সন্দেহ আছে।

যুগলকিশোর রায়চৌধুরীর জমিদারি গ্রহণ ও গৌরীপুরে রামগোপালপুর জমিদারবাড়ির গোড়াপত্তন:

শ্রীকৃষ্ণ চৌধুরীর প্রথম স্ত্রীর গর্ভজাত পুত্র চাঁদ রায়, কৃষ্ণকিশোর ও কৃষ্ণগোপাল নবাব সরকারে চাকরি অবস্থায় রায় উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। গঙ্গানারায়ণ ও লক্ষীনারায়ণ নবাব সরকারে কোনো চাকরিতে নিযুক্ত না হয়ে দিনাজপুরের অন্তর্গত ঘোড়াঘাট উপজেলার নিকটবর্তী এলাকায় করৈ বাড়িতেই বাস করতেন। এইজন্য তারা পিতৃ উপাধি হিসেবে শুধু ‘চৌধুরী’ নামে অভিহিত হতেন। তাই কৃষ্ণকিশোর রায়চৌধুরী, কৃষ্ণগোপাল রায়চৌধুরী যে অংশে বাস করতেন, তা রায়চৌধুরী হিস্যা বা তরফ’ নামে ডাকা হতো এবং যে অংশে গঙ্গানারায়ণ চৌধুরী ও লক্ষীনারায়ণ চৌধুরী বাস করতেন তা ‘চৌধুরী হিস্যা বা তরফ’ বলে ডাকা হতো। 

দিনাজপুরের ঘোড়ারঘাট চাকলায় ফকির মজনু শাহ নামক এক দুর্দান্ত দস্যু সে সময় বাস করতেন। তার ভয়ে সমস্ত চাকলা কম্পিত হতো। অত্যাচারী ব্রিটিশ কোম্পানি, জমিদার বা পুতুল নবাবদের বিরুদ্ধে লড়াকু নেতা ফকির মজনু শাহ-এর প্রভাবে তরফ রায়চৌধুরী ও তরফ চৌধুরী উভয় পক্ষই আত্মরক্ষার চেষ্টায় উদ্বিগ্ন হয়ে দিনাজপুরের করৈ অঞ্চল ত্যাগ করে জামালপুর জেলা অন্তর্গত জাফরশাহী পরগনায় কৃষ্ণপুর গ্রামে তরফ রায়চৌধুরী এবং মালঞ্চা গ্রামে চৌধুরী তরফ বাস করতে শুরু করেন। ঢাকায় অবস্থিত তৎকালীন প্রাদেশিক শাসনকর্তা মুহাম্মদ রেজা খান নিকট আবেদন করার পর শ্রীকৃষ্ণ চৌধুরীর সমস্ত সম্পত্তি সমান দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে একাংশ তরফ রায়চৌধুরী হিস্যা ও অপরাংশ তরফ চৌধুরী হিস্যা প্রাপ্ত হয়।

পলাশী যুদ্ধের আগে চাঁদ রায় মোমেনসিং পরগনার বোকাইনগরে কিংবা নন্দীপুর গ্রামে মৃত্যুবরণ করেন। যুগল কিশোরের পিতা কৃষ্ণগোপাল রায় চৌধুরী ১৭৬১ খ্রিস্টাব্দে  মৃত্যুবরণ করার পর ১৭৬৫ সালে তার জ্যাঠা কৃষ্ণকিশোর রায়চৌধুরী জামালপুর সদরের কৃষ্ণপুর গ্রামে রথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর কয়েক বছর আগে নারায়ণী দেবীকে বিবাহ করেছিলেন তিনি। তাদের কোন ঔরসজাত পুত্র সন্তান না থাকার কারণে ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে দত্তকপুত্র যুগল কিশোর রায়চৌধুরী জামালপুরে আনুষ্ঠানিক ভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন।  শ্রীকৃষ্ণ চৌধুরীর সমস্ত সম্পত্তির অর্ধেক ও তরফ রায়চৌধুরীর উত্তরাধিকারসূত্রে জমিদারি পান যুগলকিশোর রায়চৌধুরী। তার প্রয়াত জ্যাঠা কৃষ্ণকিশোরের দুই বিধবা স্ত্রী রত্নামালা ও নারায়নী দেবীর দেখাশোনা করতেন তিনি। অবশ্য পরে তার দুই জ্যাঠিমার সাথে সম্পদের ভাগাভাগি নিয়ে তার ঝামেলা হয়। ধারণা করা হয়, যেকোনোভাবেই হোক তিনি যে মুসলিম বংশের ছেলে সে সম্পর্কে দুই বিধবা কোনো আঁচ পেয়েছিলেন যে মুসলমান হিন্দু ধর্মে দীক্ষা নিয়েছেন। 

যুগলকিশোরের গায়ের রঙ ও গঠন স্বভাবতই বাঙালিদের মতো ছিল না। যুগলকিশোর অনেক চিন্তা-ভাবনা করে বিধবাদের জন্য মাসিক বৃত্তির ব্যবস্থা করে তাদের কাছ থেকে নিজের নামে সমস্ত দানপত্র লিখে নেওয়ার আয়োজন করেন। কিন্তু বিধবাদ্বয়ের সাথে তার এই বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়ায় ও দীর্ঘ সময় মোকাদ্দমা চলতে থাকে। তরফ রায় জমিদারি অংশ থেকে অর্ধেক অংশ প্রাপ্ত হলেন প্রয়াত কৃষ্ণকিশোরের দুই বিধবা স্ত্রী রত্নামালা ও নারায়নী দেবী। ১৭৭৭ খৃষ্টাব্দ হতে রত্নামালা ও নারায়নী দেবীর নামে জমিদারি চলতে লাগলো।

রামগোপালপুর জমিদারবাড়ির নাম রাখার পেছনে রয়েছে আড়াইশ' বছরের ইতিহাস। নবাব সিরাজ ও আলেয়ার পুত্র হিন্দু জমিদার পরিবারে তাদের পরিচয়ে বেড়ে ওঠা ময়মনসিংহের প্রতাপশালী জমিদার যুগলকিশোর রায়চৌধুরী ও তার বিধবা দুই জ্যাঠিমা রত্নামালা ও নারায়নী দেবীর সাথে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে ও মামলা-মোকাদ্দমায় জয় লাভের ফলে রামগোপালপুর জমিদারবাড়ির গোড়াপত্তন হয়। অর্থাৎ নতুন জমিদার হিসেবে রত্নামালা ও নারায়নী দেবীর হাতে রামগোপালপুর জমিদারবাড়ির গোড়াপত্তন ঘটেছিল এবং সেখানে কয়েক বছরের মধ্যেই তারা বসতি স্থাপন করেন। 

জমিদারির সংখ্যার দিক থেকে গৌরীপুর বাংলাদেশের সর্বাধিক:

মোমেনসিং ও জাফরশাহী পরগানার জায়গীরদার শ্রীকৃষ্ণ চৌধুরীর মৃত্যুর পর তার জমিদারিতে তিন চারটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। জাফরশাহী পরগানায় জামালপুর সদরে অবস্থিত কৃষ্ণপুর এবং মেলান্দহ উপজেলায়  ছিল মালাঞ্চ ও মহিরামকুল জমিদারবাড়ি। মোমেনসিং পরগানার গৌরীপুর উপজেলায় ছিল বোকাইনগর বাসাবাড়ি, গৌরীপুর, কালীপুর ও রামগোপালপুর জমিদারবাড়ি। পরবর্তীতে গৌরীপুরে জমিদারগণ স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। উত্তরাধিকারীরা পরবর্তী সময়ে জমিদারি ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব কলহে জড়িয়ে পরার ঘটনা পর ১৯৪৭ পর্যন্ত ক্ষুদ্র জমিদারিসহ এ উপজেলায় মোট জমিদারি ছিল ১২টি এবং এস্টেইট ছিল ৯টি। জমিদারির সংখ্যার দিক থেকে গৌরীপুর বাংলাদেশের সর্বাধিক। ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে লর্ড কর্নওয়ালিস পরগনা প্রথা বিলোপ করে জমিদারি প্রথা চালু করেন। ব্রিটিশ সরকার প্রশাসনিক সুবিধার জন্য বিভিন্ন এলাকাকে জেলায় বিভক্ত করেন। এই সব জেলাগুলো আবার কয়েকটি ছোট ছোট অংশে বিভক্ত করেন। এগুলোর নাম ছিলো এস্টেট বা তহশিল বা তালুক। কিন্তু ভৌগোলিক বিবরণ, ভূমি জরিপ ইত্যাদির ক্ষেত্রে তখনো পরগনার হিসাব ছিল। নবাব আমলে শ্রীকৃষ্ণ চৌধুরী দ্বারাই বারেন্দ্র ব্রাহ্মণ জমিদারদের কাচারি ও প্রধান কাননগোর কার্যালয়ের গোড়াপত্তন হয় বোকাইনগরে।

গৌরীপুর এস্টেইট অব মোমেনসিং নাম দিয়ে গৌরীপুর পৌরসভা ও রেলওয়ে জংশন:

গৌরীপুরের সবচেয়ে বিখ্যাত জমিদারি হলো গৌরীপুর জমিদারি’, যা মযমনসিংহের একটি বড় অংশ ছিল। এর প্রতিষ্ঠাতা জমিদার ছিলেন নবাব সিরাজের পুত্র যুগল কিশোর রায়চৌধুরী। ২০১২ সালে প্রকাশিত হয় অমলেন্দু দে'র বই ‘সিরাজের পুত্র ও বংশধরদের সন্ধানে’। ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক ড. অমলেন্দু দে। তিনি ছিলেন কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। সিরাজের বংশধরদের নিয়ে ৫০ বছরের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তিনি গবেষণামূলক বইটি প্রকাশ করেন। ২০১৪ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সেবছরই বইটি কমরেড মুজফফর আহমদ স্মৃতি পুরস্কার লাভ করে।  

মোমেনসিং পরগনায় গৌরীপুরের  নামকরণ সম্পর্কে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে। ইংরেজ আমলে গৌরীপুরের নামকরণে  হয় তা সত্য। ঐতিহাসিক ঘটনাবলি থেকে জানা যায যে, ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে গৌরীপুর মোমেনসিং পরগনার অন্তর্গত প্রধান কাছারি হিসেবে পত্তন ঘটেছিল এবং প্রাসাদের নাম দেওয়া হয়েছিল গৌরীপুর রাজবাড়ি। গৌরীপুর জমিদারি তখনকার দিনে কেবল বর্তমান নেত্রকোণা জেলাকেই অন্তর্ভূক্ত করেনি বরং বর্তমান জামালপুর জেলার  জাফরশাহী পরগনাকে অন্তর্ভূক্ত করেছিলো। জমিদারগণ ও তাদের অধীনস্থরা ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ মিমাংসায় বিচারকের দায়িত্বও পালন করতেন। ব্রিটিশ রাজত্বে  যুগল কিশোরের পরিচয় প্রকাশ হলে তিনি বিপদে পড়তে পারেন, এই আশঙ্কা থেকে তিনি হিন্দু নামটি সবসময় ব্যবহার করতেন। মোটকথা এটা স্পষ্ট যে, সরলমনা গ্রামবাসী ও ইংরেজদের চিন্তাধারা ও মস্তিষ্ক ধোলাই করার জন্য গৌরীপুর নামটি ব্যবহার করেছেন।

জামালপুরের কৃষ্ণপুর দশভূজা মুর্তি খুব জনপ্রিয় ছিল। তখন থেকেই গৌরী নামের সাথে গৌরীপুর সৃষ্টি হয়। প্রতিষ্ঠিত হয় গৌরীপুর কাচারি। কাচারি থেকে জমিদার বাড়ি, এস্টেট, ১৯২৭ সালে পৌরসভা, রেলওয়ে জংশন, থানা ও উপজেলা। 

উল্লেখ্য যে, শ্রীকৃষ্ণ চৌধুরীর গৌরী নামে কোনো মেয়ে বা সহধর্মিণী ছিল না। এমনকি তরফ রায় চৌধুরী হিস্যার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে গৌরী নামে কোন মেয়ে বা সহধর্মিণী ছিল না। 

গৌরীপুরের জমিদারির উৎপত্তির সরেজমিনে জরিপ-২০২২:

ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্বর্ণখনি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা। এই উপজেলায় ছিল প্রাচীন জনপদ, কামরূপ জনপদ, টাকশাল, দু'টি কেল্লা (দুর্গ), ছোট বড় অনেক নদী, সুলতান ও মুঘল আমলের মসজিদ, মন্দির, বার ভূইয়া এবং মুঘল আমলের দেওয়ান বাড়ি, সর্দার বাড়ি, নবাব আমলের বারেন্দ্র ব্রাহ্মণ জমিদারদের বাড়ি, মধ্যযুগের অজানা কিছু মাজার, প্রাচীন নির্দশন ইত্যাদি। উত্তর ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার অস্থিত্ব ৯ এস্টেটের ১২টি জমিদার বাড়ির ইতিহাস পুরাপুরি না পাওয়া গেলেও কোন বারেন্দ্র ব্রাহ্মণ জমিদারদের আগমনে গৌরীপুরকে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে দিয়েছে তা, এসিক এসোসিয়েশন, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন এবং দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর পেন অ্যাওয়ার্ড অ্যাফেয়ার্স-এর যৌথ উদ্যোগে আড়াইশ' বছর আগে ব্রিটিশ ভূবিদ জেমস রেনেলের মানচিত্র সংগ্রহের মাধ্যমে ধারাবাহিক গবেষণায় জমিদারের সঠিক ইতিহাস উদঘাটনের প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে।

ইতিহাসের পাতা ঘাটলে দেখা, মোমেনসিং পরগনা (উত্তর-পূর্ব ময়মনসিংহ, গৌরীপুর উপজেলা, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার অর্ধেক, কেন্দুয়া উপজেলার আংশিক, নেত্রকোনা জেলা সদর, আটপাড়া, বারহাট্টা, মোহনগঞ্জ, ধর্মপাশা, তাহেরপুর উপজেলার আংশিক ও সুনামগঞ্জ জেলার আংশিক অংশ) ও জাফরশাহীর পরগনা (জামালপুর জেলা সদর, মেলান্দহ উপজেলা, মাদারগঞ্জ উপজেলার আংশিক ও মধুপুরের আংশিক) - এই দুই পরগনার  জমিদার শ্রীকৃষ্ণ চৌধুরীর প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর গর্ভজাত সন্তানগণ পূর্ব হতেই পৃথকভাবে বাস করতেন। তারা পৃথক বাড়িতে থাকলেও শ্রীকৃষ্ণ চৌধুরীর মৃত্যুর পর বিষয় সম্পত্তি অবিভক্ত ছিল। জমিদারির শাসন, সংরক্ষণ, তদারকি একযোগে হতো। জমিদারির দাপ্তরিক কাজও একত্রেই হতো। পরে ভ্রাতৃ-বিরোধ ও আত্মকলহে এই পরিবারের বন্ধন পৃথক হয়ে যায়। 

শ্রীকৃষ্ণ চৌধুরীর মৃত্যুর পর কৃষ্ণকিশোর, কৃষ্ণগোপাল, গঙ্গানারায়ণ ও লক্ষীনারায়ণ এই অবশিষ্ট চার ভাই সমস্ত সম্পত্তির অধিকারী হন। চার ভাইয়ের মধ্যে দু'টি তরফ গঠিত হয়েছিল - তরফ রায় হিস্যা ও তরফ চৌধুরী হিস্যা। বর্তমান তরফ রায় হিস্যার জমিদার বাড়ি ও কাচারি - মোমেনসিং পরগনার গৌরীপুর উপজেলায় অবস্থিত গেীরীপুর রাজবাড়ি, রামগোপালপুর জমিদারবাড়ি ও কৃষ্ণপুর জমিদারবাড়ি (গৌরীপুর সরকারি কলেজ) এবং জাফরশাহী পরগনার জামালপুর শহরে অবস্থিত গৌরীপুর কাচারি, রামগোপালপুর কাচারি, শ্রী শ্রী রাধামোহন জিউ মন্দিও, দয়াময়ী মন্দির, জামালপুর সদর।

অন্যদিকে, তরফ চৌধুরী হিস্যার জমিদার বাড়ি ও কাচারি - মোমেনসিং পরগনার গৌরীপুর উপজেলায় অবস্থিত কালীপুর জমিদারবাড়ি (বড় তরফ, মধ্যম তরফ, ছোট তরফ, ডি কে লাহিড়ী জমিদারবাড়ি), গোলকপুর জমিদারবাড়ি, ভবানীপুর জমিদারবাড়ি, বাসাবাড়ি জমিদারবাড়ি, ডৌহাখলা জমিদারবাড়ি এবং জাফরশাহী পরগনার মেলান্দহ উপজেলার মহিরামকুল গ্রামে অবস্থিত কালীপুর কাচারি (বড় তরফ কাচারি, মধ্যম তরফ কাচারি, ছোট তরফ কাচারি), মহিরামকুলের পার্শ্ববর্তী মালঞ্চ গ্রামে অবস্থিত বাসাবাড়ি জমিদারদের কাচারি, জামালপুর।

সদ্য বিদায়ী গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মারুফ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা ইতিহাস আর ঐতিহ্যে অনেক সমৃদ্ধ, তবে সেগুলোর যত্ন আর সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। এখনো অজানা রয়েছে অনেক ইতিহাস। এগুলোকে তুলে আনতে হবে। আর যেগুলো অনুসন্ধান করে বের করা হয়েছে সেগুলোরও যথাযথ সংরক্ষণ করা দরকার। তিনি এসব ইতিহাস তুলে ধরার জন্য অভিনন্দন জানান স্থানীয় সংগঠনগুলোকে। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি অ্যান্ড লাইব্রেরির উদ্যোগে স্বল্প পরিসরে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গৌরীপুর দিবস ও ২৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। শুভ হোক আগামী দিনের প্রত্যাশা।’

তথ্য সূত্রঃ (১) ময়মনসিংহের বারেন্দ্র ব্রাহ্মণ জমিদার - শ্রী শৌরীন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী (রামগোপালপুর এস্টেট এর জমিদার ও রাজা যোগেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর তৃতীয় পুত্র)। (২) ময়মনসিংহের ইতিহাস ও  ময়মনসিংহের বিবরণ - শ্রী কেদারনাথ মজুমদার। (৩) ময়মনসিংহের জমিদারি ও ভূমিস্বত্ব - মো. হাফিজুর রহমান ভূঞা। (৪) ব্রিটিশ ভূবিদ মেজর জেমস রেনেলের অংকিত কয়েকটি মানচিত্র। (৫) সিরাজের পুত্র ও বংশধরদের সন্ধানে - ভারত উপমহাদেশের অন্যতম কৃতী ইতিহাসবিদ ও প্রফেসর ড. অমলেন্দু দে। (৬) নেত্রকোণা জেলার ইতিহাস - আলী আহম্মদ খান আইয়োব। (৭) উইকিপিডিয়ার উল্লেখিত শিরোনামগুলো থেকে (ক) গৌরীপুর উপজেলা - উইকিপিডিয়া (খ) ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী - উইকিপিডিয়া (গ) রামগোপালপুর জমিদার বাড়ি - উইকিপিডিয়া (ঘ) গৌরীপুর জমিদারবাড়ি - উইকিপিডিয়া। (৮) বাংলাপিডিয়া (৯) ম্যাগাজিন: পেন অ্যাওয়ার্ড অ্যাফেয়ার্স-২০২০, পেন অ্যাওয়ার্ড অ্যাফেয়ার্স-২০২১ ও ২০২২ (১০) ইতিহাস অনুসন্ধানী সংগঠন কর্তৃক প্রতিবেদন (এসিক এসোসিয়েশন, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন ও দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর পেন অ্যাওয়ার্ড অ্যাফেয়ার্স ) (11) A Description Of The Roads In Bengal And Bahar and A General Map of the Roads in Bengal (12) The Rise of Islam and the Bengal Frontier, 1204-1760- Richard M. Eaton (13) The History of British India- James Mill (14) The history of two forts in Gouripur, Mymensingh ( An article published in the New Nation). (15) David Rumsey Historical Map Collection. (16) New York Historical Society. (১৭) ময়মনসিংহ অঞ্চলের ঐতিহাসিক নিদর্শন - দরজি আবদুল ওয়াহাব (১৮) ময়মনসিংহের রাজপরিবার - আবদুর রশীদ।

লেখক: সাংবাদিক, গবেষক ও ইতিহাস সন্ধানী।

এসবিডি/এবি/

মন্তব্য করুন: