• ঢাকা

  •  বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৫, ২০২৪

অর্থ ও কৃষি

গাড়ল পালন করে স্বাবলম্বী দামুড়হুদার শান্তিরুল

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:

 আপডেট: ২০:০৭, ২ জুন ২০২৩

গাড়ল পালন করে স্বাবলম্বী দামুড়হুদার শান্তিরুল

ছবি: সময়বিডি.কম

চুয়াডাঙ্গা: গাড়ল পালনে খরচ কম, লাভ বেশি হওয়ায় এবং এর চাহিদা বৃদ্ধির পাওয়ায় চুয়াডাঙ্গায় আগ্রহ বেড়েছে খামারীদের। আর এই গাড়ল পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদাহ ইউনিয়নের চারুলিয়া গ্রামের মৃত নুর ইসলামের ছেলে শান্তিরুল ইসলাম। 

গাড়ল ভেড়ার একটি উন্নত জাত। এটি ভেড়ার চেয়ে আকারে বড় হয় এবং মাংসের পরিমাণও বেশি। তবে দেখতে ভেড়ার মতোই। ভেড়া পালনের জায়গা এখন গাড়লের দখলে। এরা নোনা পানি এলাকায় সহজে মানিয়ে নিতে পারে। এগুলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নাগপুর অঞ্চলের ছোটনাগপুরি জাতের ভেড়ার সঙ্গে আমাদের দেশি ভেড়ার ক্রস ব্রিড। এই ক্রস ব্রিডের নামকরণ করা হয় ‘গাড়ল’। এরা সাধারণত ৭-৮ মাস পর পর একটি করে বাচ্চা দিয়ে থাকে। 

তিনি ২০১৭ সালে ১০টি গাড়ল দিয়ে শুরু করেন খামার। দুই বছরের মাথায় লাভের মুখ দেখতে শুরু করেন তিনি। এখন তার খামারে গাড়ল আছে ২৭৫টি। বর্তমানে মাঠে ছেড়ে দিয়েই খাদ্যের চাহিদা পুরণ হয়। বাড়তি কোনো খাদ্যের প্রয়োজন হয় না। বছরে দুইবার এক থেকে দুইটি করে বাচ্চা দিয়ে থাকে গাড়ল। মাচার উপর গাড়ল থাকতে পছন্দ করে। মাচার উপর থাকায় গাড়লের বিষ্ঠা নিচে পড়ে যায়। নিচে পড়া বিষ্ঠা জৈব সার হিসেবে বিক্রি করা যায়।

গাড়লের লেজ লম্বা হয়। মাংসের চাহিদা মেটাতে চুয়াডাঙ্গা জেলায় বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে গাড়লের খামার। গাড়লের খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে অনেকের।

গাড়ল পালনকারী শান্তিরুল ইসলাম সময়বিডি.কম-কে জানান, ২০১৭ সালে মাত্র ১০টি গাড়লের বাচ্চা কিনে পালন শুরু করি। এর পর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একসময় সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকতো। এখন বছরে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা আয় হচ্ছে। তিনজন বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে। সরকারি সহযোগীতা ও সহজ শর্তে ঋণ পেলে আরো বড় করে গড়ে তুলবো খামার।

শান্তিরুল ইসলাম আরো জানান, গাড়লের মাংস গন্ধমুক্ত এবং সুস্বাদু। পুষ্টিগুনও ভালো। দেশের দক্ষিণবঙ্গে এ মাংসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতি কেজি মাংস এক হাজার থেকে ১১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। তুলনামূলক গৃহপালিত অন্য প্রাণির চেয়ে গাড়লের রোগবালাই কম হয় এবং দ্রুত মাংস বৃদ্ধি হয়। গাড়লের মাংসে চর্বি কম থাকে।

দামুড়হুদা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার সময়বিডি.কম-কে বলেন, দামুড়হুদা উপজেলায় বেশ কয়েকটি গাড়ল খামার গড়ে উঠেছে। অনেকেই স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে এই গাড়ল পালনে আগ্রহী হচ্ছে। গাড়ল পালনে তেমন বাড়তি খরচ হয় না। গাড়ল সবুজ ঘাস খেতে পছন্দ করে। চারণভুমি থাকলে গাড়লের জন্য বাড়তি খাবারের প্রয়োজন হয় না। তেমন রোগবালাই হয় না।

জুন ২, ২০২৩

সালাউদ্দীন কাজল/এডিবি/

মন্তব্য করুন: