• ঢাকা

  •  শুক্রবার, মে ২৪, ২০২৪

অপরাধ

জীবননগরে স্ত্রী-মেয়ের হাতে খুন হলেন ব্যবসায়ী

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:

 আপডেট: ২২:২১, ২৬ আগস্ট ২০২৩

জীবননগরে স্ত্রী-মেয়ের হাতে খুন হলেন ব্যবসায়ী

ছবি: সময়বিডি.কম

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ব্যবসায়ি মতিয়ার রহমান মতিকে (৫৫) গলাকেটে হত্যা করেছে তার মেয়ে ময়না খাতুন (২২) ও স্ত্রী তাসলি খাতুন (৫০)।

শনিবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাতটার দিকে উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের দেহাটি গ্রামের মাঠপাড়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত মতিউর রহমান মতির দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে ২৭ বছর বয়সি তাজমুল ও ছোট ছেলে ২৪ বছর বয়সে নাজমুল। এবং তার মেয়ে ২২ বছর বয়সী ময়না খাতুন।

মতির মেয়ে ময়নার স্বামী কাশিপুর গ্রামের সুমন হোসেন দ্বিতীয় বিয়ে করায় ১৩ দিন ধরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিল। এদিকে তার বড় ছেলে তাজমুল হোসেন তিন বছর যাবত শ্বশুরবাড়িতে থাকেন এবং ছোট ছেলে নাজমুল গত বৃহস্পতিবার তার শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যায়। শনিবার মতি খুন হয়।

মতির মেয়ে ময়না বাবাকে খুনের ঘটনা স্বীকার করে বলেন, 'শুক্রবার রাত ১১টার দিকে আমি আমার রুমে শুয়েছিলাম। তখন বাবা আমাকে এসে কুপ্রস্তাব দেয়। এতে আমি বিব্রত হয়ে বাবাকে ধমক দিই। পরে বাবা আমার মাকে যেন কিছু না বলি এই প্রতিশ্রুতিতে তার নিজের রুমে চলে যায়।'

তিনি বলেন, 'এরপর সকাল সাতটার দিকে আমার বাবা নিজ ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। কিন্তু আমি কিছুতেই রাতের ঘটনা মেনে নিতে পারছিলাম না। পরবর্তীতে ঘরে থাকা ছুরি দিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় আমার বাবার গলা কেটে দিই এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষতবিক্ষতসহ পুরুষাঙ্গ কেটে বিচ্ছিন্ন করি। তখন আমার মা আমার সাথেই ছিল। আর এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।'

স্থানীয়রা জানান, মতি একজন কিস্তি ব্যবসায়ী। তিনি দেহাটি মাঠপাড়ায় নতুন বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছিলেন। আমরা কখনো তার এরকম কথা শুনিনি। মা ও মেয়ে দুজনই ম‌হিলা হয়ে এ রকম ঘটনা ঘটাতে পারে না। এর পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে বলে মনে করেন তারা।

ম‌তির বড় ছেলে তাজমুল হোসেন বলেন, আমি তিন বছর যাবত আমার শ্বশুরবাড়ি মহেশপুর থানার কুসুমপুরে বসবাস করছি। আমার বাবার সাথে প্রায় আমার ফোনে কথা হয়। কিন্তু আমার বাবার বিষয়ে এরকম অপবাদ কখনো আমার মা বা বোনের কাছ থেকে শুনিনি।

ছোট ছেলে নাজমুল হোসেন বলেন, আমি গত বৃহস্পতিবার রাতে আমার শ্বশুরবাড়ি যাই। কিন্তু আজ সকালে শুনতে পারি আমার মা ও বোন আমার বাবাকে হত্যা করেছে। তাছাড়া আমার মা ও বোনের কাছ থেকে আমি কখনো আমার বাবার সম্বন্ধে এ রকম অপবাদ শুনিনি।

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম জাবীদ হাসান বলেন, আমরা হত্যাকাণ্ডের কথা শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। সেই সাথে মা ও মেয়েকে আটক করি। তারা মতিউর রহমান মতি হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে স্বীকার করেন। এ ছাড়াও ঘটনার সাথে আরো কেউ জড়িত আছে কি-না সেটি আমরা তদন্তকরে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নিবো।

আগস্ট ২৬, ২০২৩

সালাউদ্দীন কাজল/এবি/

মন্তব্য করুন: