• ঢাকা

  •  রোববার, এপ্রিল ২১, ২০২৪

জেলার খবর

প্রচণ্ড গরমে কদর বেড়েছে হাতপাখার

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:

 প্রকাশিত: ১৭:৫৫, ৮ জুন ২০২৩

প্রচণ্ড গরমে কদর বেড়েছে হাতপাখার

ছবি: সময়বিডি.কম

চুয়াডাঙ্গা: তীব্র দাবদাহের কারণে সারাদেশের মতো চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার জনজীবনও বিপর্যস্ত। হাঁস-ফাঁস অবস্থা খেটে খাওয়া মানুষদের। হাট-বাজার ও বিপণি বিতানে আসা মানুষদের কাছে কদর বেড়েছে হাতপাখার। গরম ও লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষের ভরসা এখন হাতপাখায়।

জীবননগর পৌরশহরের পুরাতন বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে মৌসুমি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে হাতপাখা কেনার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। কিছুদিন আগে যে হাতপাখা ৩৫-৫০ টাকায় বিক্রি হতো বর্তমানে তা ৮০ টাকা থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে পাখা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটছে গৃহবধূসহ কারিগরদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের গৃহবধূরা পাখা তৈরি করে থাকেন। গ্রামাঞ্চলে এ পাখার কদর বেশি থাকলেও শহরের অনেকে এখনো এ পাখা কেনেন। হাতপাখা তৈরির মানুষগুলো ৪-৫ প্রকারের পাখা তৈরি করে থাকেন। অনেকে সুঁই-সুতা দিয়ে ফুল, ফলের দৃশ্যসহ বিভিন্ন প্রকৃতির অবয়ব ফুটিয়ে তোলেন।

স্থানীয়রা জানান, একসময় গরম থেকে স্বস্তি পেতে হাতপাখা ছিল সবার ভরসা। বর্তমানে সেটি বৈদ্যুতিক পাখা দখলে নিয়েছে। কেউ কেউ ব্যবহার করছেন এসি। প্রচণ্ড গরমে সম্প্রতি লোডশেডিং বেড়েছে। তাই পাখার কোনো বিকল্প নেই। পাখার বাতাসও অনেক প্রশান্তি দেয়। কিন্তু আধুনিক ও তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এসে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র, ইলেকট্রিক পাখার দাপটে এখন বাঁশ-বেতের তৈরি হরেক রকমের হাতপাখা বিলুপ্ত প্রায়।

বৃহস্পতিবার (৮ জুন) জীবননগরের শিয়ালমারী পশুহাটে পাখা কিনতে আসা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক আব্দুল খালেক সময়বিডি.কম-কে বলেন, কয়েকদিনের তীব্র গরমে জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। দিন-রাতের বেশিরভাগ সময়ে বিদ্যুৎ থাকে না। তাই একটি হাতপাখা কিনেছি। কিছুটা হলেও গরম থেকে স্বস্তি পাব।

উথলী গ্রামের আব্দুল মান্নান বলেন, দৈনিক ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এতে শিশুদের নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এখন বৈদ্যুতিক পাখার পরিবর্তে হাতপাখা ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছি। হাতপাখা নাড়াতে নাড়াতে একপর্যায়ে হাত ব্যথা হয়ে ওঠে। অপেক্ষায় থাকি কখন বিদ্যুৎ আসবে।

পৌরশহরের ব্যবসায়ী মামুন বলেন, গরমে স্বস্তি পেতে ১১০ টাকায় একটি সুতার পাখা কিনেছি। পাখাটি হালকা ও সুন্দর। বিদ্যুৎ না থাকলে বাতাসও করা যাবে।

শিয়ালমারী পশুহাটে পাখা বিক্রেতা নিজাম উদ্দিন বলেন, তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ের কারণে গত কয়েকদিনে হাতপাখা বিক্রি বেড়েছে। দৈনিক ৭০ থেকে ১০০ পিস হাতপাখা বিক্রি করছি। সুতার, বেতের, কাপড়ের, বাঁশের, তাল পাতার ও প্লাস্টিকের হাতপাখা বিক্রি করছি। প্রতিটি হাতপাখা খুচরা ১২০ টাকা বিক্রি করছি।

জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মোঃ হাফিজুর রহমান সময়বিডি.কম-কে বলেন, হাতপাখা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের অংশ। হাতপাখা তৈরিতে উপজেলার অধিকাংশ নারী জড়িত। বাংলার ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে এবং উদ্যোক্তাদের যে কোনো ধরনের সহযোগিতার দরকার হলে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আমরা অবশ্যই তাদের সহযোগিতা করবো।

জুন ৮, ২০২৩

সালাউদ্দীন কাজল/এবি/

মন্তব্য করুন: