• ঢাকা

  •  শুক্রবার, মে ২৪, ২০২৪

ফিচার

কবিগুরুর স্মৃতি আঁকড়ে কালিম্পংয়ের গৌরীপুর ভবন

অনলাইন ডেস্ক:

 প্রকাশিত: ২২:৪৩, ৮ আগস্ট ২০২৩

কবিগুরুর স্মৃতি আঁকড়ে কালিম্পংয়ের গৌরীপুর ভবন

ছবি: সংগৃহীত

কালিম্পংয়ের গৌরীপুর ভবন। একাকী নিঃসঙ্গ সেই বাড়ি। কবিগুরুর স্মৃতি বিজড়িত সেই বাড়ি। ১৯৩৮ থেকে ১৯৪০ সালে অন্তত তিন থেকে চারবার কবি এই বাড়িতে এসেছিলেন।

বলা হয়, কালিম্পংয়ে গৌরীপুর ভবনে ১৯৪০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রবি ঠাকুর তৃতীয়বার এসেছিলেন। সাজিয়ে তোলা হয়েছিল গৌরীপুর ভবন। সেই সময় কিছুটা অসুস্থ ছিলেন কবি। তবে পাহাড়ে আসার পর কিছুটা সুস্থতা বোধ করেন তিনি। এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর বিকালে বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েন কবি। এরপর পাহাড় থেকে কলকাতার পথে। 

না, কবির আর ফেরা হয়নি গৌরীপুর ভবনে। তবে কবির স্মৃতি আঁকড়ে আজও আছে গৌরীপুর। কিন্তু কেমন আছে কবির অত্যন্ত প্রিয় সেই গৌরীপুর ভবন?

কালিম্পং পাহাড়। রিং কিং পিং রোড ধরে কিছুটা এগোলেই গৌরীপুর ভবন। বেশ নির্জনই বলা যায়। কবিগুরুর তো বড্ড প্রিয় ছিল এই নির্জনতা। বাড়ির ডানদিকের কোণে কর্পূর আর ম্যাগনোলিয়া গাছ। বলা হয় কবিই নাকি এই দুটি গাছ রোপন করেছিলেন।

‘…সদ্যই প্রাণের প্রান্তপথে ডুব দিয়ে উঠেছে সে বিলুপ্তির অন্ধকার হতে মরণের ছাড়পত্র নিয়ে, মনে হতেছে কী জানি পুরাতন বৎসরের গ্রন্থিবাঁধা জীর্ণ মালাখানি সেথা গেছে ছিন্ন হয়ে, নবসূত্রে পড়ে আজি গাঁথা নব জন্মদিন।’ ১৩৪৫ সনের ২৫ শে বৈশাখ (১৯৩৮ সালের ২৫ শে বৈশাখ) কবিগুরু টেলিফোনের মাধ্যমে এই বাড়ি থেকেই আবৃত্তি করেছিলেন তাঁর জন্মদিন কবিতাটি। আর সেটি সম্প্রচারিত হয়েছিল রেডিওতে।

প্রাবন্ধিক, গবেষক দীপঙ্কর দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, কবিগুরুর স্মৃতি বিজড়িত এই গৌরীপুর ভবন। রবীন্দ্রনাথের কণ্ঠস্বর সেদিন বেতার শ্রোতারা শুনতে পেয়েছিলেন তার পেছনে অবদান ছিল বেতার কর্তা অশোক সেনের। তিনি নিজে উদ্যোগ নিয়ে গৌরীপুর ভবনে টেলিফোন সংযোগের ব্যবস্থা করেছিলেন। তবে আগের রাতেই তুমুল ঝড়বৃষ্টি। আশঙ্কা হয়েছিল হয়তো কাজ করবে না টেলিফোন। তবে সেবার ২৫শে বৈশাখ সকাল থেকেই আবহাওয়া অনেকটাই ভালো হলো। ট্রাঙ্ক টেলিফোনের মাধ্যমে রিলে করে রবীন্দ্রনাথের স্বকণ্ঠে শ্রোতারা শুনতে পেলেন জন্মদিন কবিতাটি। 

তৎকালীন ময়মনসিংহের গৌরীপুরের জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোরের বাড়ি হলো এই গৌরীপুর ভবন। সেখানেই আসতেন কবি। সেই ফায়ার প্লেস, কাঠের দরজা, কাঠের সিঁড়ি আজও আছে। কিন্তু কোথাও যেন সুর কেটে গেছে। 'জীর্ণ মালাখানি সেথা গেছে ছিন্ন হয়ে…' স্থানীয়রা বুক দিয়ে আগলে রেখেছেন এই বাড়িটিকে। 

পর্যটকদের অনেকেই মংপু যান, কিন্তু অনেকেই গৌরীপুর ভবনের দিকে বড় একটা আসেন না। 

প্রাবন্ধিক দীপঙ্কর দাশগুপ্ত বলেন, জুন মাসে গিয়েছিলাম। সংস্কারের তোড়জোড় চলছে দেখলাম। কিন্তু আশঙ্কা হয়, সংস্কারের পরে বাড়ির ভিতরে -বাইরে পুরনো চেহারা পুরোপুরি অটুট থাকবে তো!

সূত্রের খবর, রাজ্য হেরিটেজ কমিশন, রাজ্য তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর এই বাড়িটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রায় দুই কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে। 

কিন্তু রবীন্দ্রপ্রেমীদের অনেকেরই মতে, বড্ড দেরি হয়ে গেল। আর মূল কাঠামোটা বজায় রেখে যাতে সংস্কার করা হয় সেটা দেখা দরকার। আধুনিক রূপ দিতে গিয়ে অন্যরকম কিছু যাতে করে ফেলা না হয় সেটা দেখাও দরকার। - হিন্দুস্তান টাইমস প্রতিবেদন

আগস্ট ৮, ২০২৩

এসবিডি/এবি/

মন্তব্য করুন: