• ঢাকা

  •  সোমবার, ডিসেম্বর ১, ২০২৫

জেলার খবর

ঈশ্বরগঞ্জে দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ দখল করে প্রশিক্ষণ

মোঃ আরিফুল হক

 প্রকাশিত: ২১:৩৪, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

ঈশ্বরগঞ্জে দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ দখল করে প্রশিক্ষণ

ছবি- সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ দখল করে এবং শিক্ষার্থীদের ক্লাসের বাহিরে রেখে দর্জি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে রূপসী বাংলা টেকনিক্যাল সেন্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে রবিবার (৩০ নভেম্বর) মো. নাজির হোসেন রনি নামে একজন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

জানা গেছে, গত ২১ নভেম্বর থেকে প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে ১০০ টাকার আবেদন পত্র দিয়ে দুই মাস মেয়াদী দর্জি প্রশিক্ষণ শুরু করা হয়। পরে ধাপে ধাপে ট্রেইনাররা প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা উঠাবেন এবং অনেক প্রশিক্ষণার্থী ইতোমধ্যে টাকাও দিয়েছেন।

অভিযোগ করে নাজির হোসেন বলেন,প্বার্শবর্তী গৌরীপুর উপজেলার পশ্চিম কাওরাট গ্রামের মো. মাহবুবুর রহমান ফয়সাল তার দলবল নিয়ে রূপসী বাংলা টেকনিক্যাল সেন্টারের ব্যানারে ঈশ্বরগঞ্জের বড়হিত ইউনিয়নের জুগিয়াখালি মনির উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মাইজবাগ ইউনিয়নের উত্তর মাইজবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দখল করে অবৈধভাবে দর্জিপ্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা ক্লাস থেকে বঞ্চিত হয়ে এলেমেলোভাবে বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় ও রাস্তায় ঘুরতে দেখা গেছে। তারা সকাল বিকাল দুই শিফটে ট্রেনিং কার্যক্রম পরিচালনা করে।

তিনি আরও বলেন,মূলত তাদের ট্রেইনারদের কেউই রূপসী বাংলা টেকনিক্যাল সেন্টারের প্রকৃত মালিক বা কর্তৃপক্ষ নয়। মাহবুবুর রহমান ফয়সাল তার ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য ইচ্ছেমত ফি আদায় করে এই প্রশিক্ষণ চালাচ্ছে। এদিকে দিকে বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা আসন্ন হওয়ায় শিক্ষার্থীরা শ্রেণি কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, রূপসী বাংলা ট্রেনিং সেন্টার যেহেতু সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোন প্রতিষ্ঠান নয়। তাহলে কর্তৃপক্ষের অনুমিত ছাড়া কীভাবে সরকারি স্কুলে এমন প্রশিক্ষণ পরিচালিত হচ্ছে? ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সামনে বার্ষিক পরীক্ষা। এইসময়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস ব্যাঘাত সৃষ্টি করা কোন ভাবেই কাম্য নয়। এতে ফলাফলে প্রভাব পড়বে।

সরেজমিন জুগিয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল ৯ সাড়ে নয়টার পরেও বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে প্রশিক্ষণ চলছে। প্রশিক্ষণ কক্ষের ভিতরেই ব্যাগ কাধে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়াদুল ইসলাম। সে জানায়, আমি ক্লাসে গিয়ে দেখি বড়দের পড়ানো হচ্ছে। তাই ব্যাগ কাধে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি।

এ সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের তড়িঘড়ি করে প্রশিক্ষণার্থীদের বিদায় করে দেন ট্রেইনার মাহবুবুর রহমান ফয়সাল। এবিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুবুর রহমান ফয়সাল বলেন,'আমরা প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু করেছি। স্কুল শুরু হওয়ার আগেই ক্লাস শেষ করে আমরা চলে যাই।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জুগিয়াখালী মনির উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমিরুল হক বলেন,'আমার কাছ থেকে অফ টাইমে প্রশিক্ষণ ক্লাস চালু করার অনুমতি নিয়েই দর্জিপ্রশিক্ষণ হচ্ছে স্কুলে। স্কুলে প্রশিক্ষণের অনুমতি দিয়েছেন বিষয়টি কি আপনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবগত করেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষক আমিরুল হক বলেন,আমি হলাম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, স্কুলে প্রশিক্ষণ চালানোর জন্য শিক্ষা অফিসারের অনুমতি নিতে হবে কেন! যাকে মন চায় তাকে গিয়ে বলেন আপনারা।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ বলেন,'প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাহিরের কোন প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ চালু করার নিয়ম নেই। এনিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট স্কুল প্রধানদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা বিষয়টি অস্বীকার করে। তবে আমরা বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখে ব্যাবস্থা নিবো।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) সানজিদা রহমান বলেন,'এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।'

এসবিডি/ওবায়দুর রহমান

মন্তব্য করুন: