• ঢাকা

  •  সোমবার, ডিসেম্বর ৫, ২০২২

অপরাধ

জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৫ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

অনলাইন ডেস্ক:

 প্রকাশিত: ১৯:৩১, ২১ নভেম্বর ২০২২

জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৫ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

ঢাকা: রাজধানীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে থেকে প্রকাশক দীপন হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামীকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দায়িত্বরত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সোমবার (২১ নভেম্বর) ডিএমপি’র প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার জসিম উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বরখাস্তকৃত পুলিশ সদস্যরা হলেন - সিএমএম আদালতের হাজতখানার কোর্ট ইন্সপেক্টর মতিউর রহমান, হাজতখানার ইনর্চাজ পুলিশের এসআই নাহিদুর রহমান ভুইয়া, আসামিদের আদালতে নেওয়ার দায়িত্বরত পুলিশের এটিএসআই মহিউদ্দিন, কনস্টেবল শরিফ হাসান ও আব্দুস সাত্তার।

তিনি বলেন, আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হবে।

গতকাল রবিবার পুলিশের মুখে স্প্রে মেরে ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণ থেকে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গি সদস্যকে ছিনিয়ে নেয় জঙ্গিরা। ছিনিয়ে নেওয়া জঙ্গি সদস্যরা হলেন - সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মাধবপুরের মইনুল হাসান শামীম ও লালমনিরহাটের আদিতমারি উপজেলার ভেটেশ্বর গ্রামের আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব। তারা জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য।

এ সময় আরো দুই আসামী আরাফাত ও সবুরকে ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করে জঙ্গিরা। ঘটনাস্থল থেকে আরাফাত ও সবুরকে আটক করা হয়েছে।

এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় কোর্ট পরিদর্শক জুলহাস বাদি হয়ে একটি মামলা করেন। মামলায় কয়েকজনকে আসামি করা হয়। এছাড়া অজ্ঞানামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়।

কোতোয়ালি থানায় করা মামলার সুষ্ঠুতদন্তের জন্য আসামিদের বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে বিচারক প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

রিমান্ডভূক্তরা হলেন- শাহীন আলম ওরফে কামাল, শাহ আলম ওরফে সালাউদ্দিন, বি এম মজিবুর রহমান, সুমন হোসেন পাটোয়ারী, আরাফাত রহমান, খাইরুল ইসলাম ওরফে সিফাত, মোজাম্মেল হোসেন, শেখ আব্দুল্লাহ, আ. সবুর ও রশিদুন্নবী ভূঁইয়া। আসামিরা সবাই আনসার আল ইসলামের সদস্য।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আনসার আল ইসলামের সামরিক শাখার নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে সাগর ওরফে বড় ভাই ওরফে মেজর জিয়ার (চাকরিচ্যুত মেজর) পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় আয়মান ওরফে মশিউর রহমান (৩৭), সাব্বিরুল হক চৌধুরী ওরফে আকাশ ওরফে কনিক (২৪), তানভীর ওরফে সামশেদ মিয়া ওরফে সাইফুল ওরফে তুষার বিশ্বাস (২৬), রিয়াজুল ইসলাম ওরফে রিয়াজ ওরফে সুমন (২৬) ও মো. ওমর ফারুক ওরফে নোমান ওরফে আলী ওরফে সাদ (২৮) পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে। 

এ পরিকল্পনার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দু’টি মোটরসাইকেলযোগে আনসার আল ইসলামের অজ্ঞাতনামা ৫ থেকে ৬ জন সদস্য অবস্থান নেয়। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জন আনসার আল ইসলামের সদস্য আদালতের মূল ফটকের সামনে অবস্থান করে। এরপর তারা পুলিশের কাছ থেকে আসামিদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

মামলা এজাহারে আরো বলা হয়, রোববার সকাল ৮টা ৫ মিনিটে কাশিমপুর থেকে ১২ জন আসামিকে ঢাকার আদালতে প্রিজন ভ্যানে করে আনা হয়। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকার প্রসিকিউশন বিভাগে আসামিদের হাজিরা দেওয়ার জন্য সিজেএম আদালত ভবনের সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনাল ৮-এ নিয়ে যাওয়া হয়।

এ মামলার শুনানি শেষে জামিনে থাকা ১৩ নম্বর আসামি মোঃ ঈদী আমিন (২৭) ও ১৪ নম্বর আসামি মেহেদী হাসান অমি ওরফে রাফি (২৪) আদালত থেকে বের হয়ে যায়।

এরপর বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে আদালতের মূল ফটকের সামনে পৌঁছামাত্র আগে থেকেই দুটি মোটরসাইকেলে অজ্ঞাতনামা আনসার আল ইসলামের ৫ থেকে ৬ জন সদস্য এবং আনসার আল ইসলামের আরও ১০ থেকে ১২ জন সদস্য অবস্থান করে। তারা কনস্টেবল আজাদের হেফাজতে থাকা আসামী মইনুল হাসান শামিম ওরফে সিফাত ওরফে সামির ওরফে ইমরান (২৪), মোঃ আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব (৩৪) মোঃ আরাফাত রহমান (২৪) ও মোঃ আঃ সবুর ওরফে রাজু ওরফে সাদ ওরফে সুজনকে (২১) ছিনিয়ে নিতে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে। এ সময় তারা দুই জঙ্গি সদস্য মইনুল হাসান ও সোহেলকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

নভেম্বর ২১, ২০২২

এসবিডি/এবি/

মন্তব্য করুন: