• ঢাকা

  •  রোববার, জানুয়ারি ২৯, ২০২৩

বাংলাদেশ

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তে একবছরে সাড়ে ৪ মণ সোনা জব্দ

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:

 প্রকাশিত: ০৮:০২, ২১ জানুয়ারি ২০২৩

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তে একবছরে সাড়ে ৪ মণ সোনা জব্দ

প্রতীকী ছবি

চুয়াডাঙ্গা: যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা ও খুলনার অধিভুক্ত সীমান্তগুলো দিয়ে ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে পাচারকালে ১৮৫ কেজি (সাড়ে চার মণ) সোনা জব্দ করা হয়েছে। এরমধ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জব্দ করেছে বেশিরভাগ আর কয়েকটি চালান জব্দ করেছে যশোর জেলা পুলিশ। যার আনুমানিক বাজারমূল্য দেড়শ কোটি টাকা।

বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন কমান্ডারের সদর দপ্তর সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। 

চোরাকারবারি আটক ও সোনা উদ্ধারে সাফল্যের প্রথম তালিকায় রয়েছে বিজিবির যশোর-৪৯ ব্যাটালিয়ন, দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে খুলনা-২১ ব্যাটালিয়ন এবং তৃতীয় অবস্থানে আছে যশোর জেলা পুলিশ। 

সোনা ও সোনার বার জব্দের তালিকায় সাফল্যের শীর্ষে রয়েছে যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। এ ব্যাটালিয়নের অধিভুক্ত সীমান্তগুলো দিয়ে জব্দ সোনার পরিমাণ ৭৯ কেজি ৪৭৩ গ্রাম। যার বাজারমূল্য ৬৬ কোটি ৮৭ লাখ ৩৬ হাজার ৭০০ টাকা। এসব সোনা পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকায় ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে। 

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে খুলনা বিজিবি ব্যাটালিয়ন। এ ব্যাটালিয়নের অধিভুক্ত সীমান্তগুলো দিয়ে ভারতে পাচারের সময় জব্দ করা হয় ৪২ কেজি ৪০৭ গ্রাম সোনা। এসব সোনার বাজারমূল্য ৩০ কোটি ২৯ লাখ ৮২ হাজার ১৭৮ টাকা। আটক করা হয়েছে ১৮ জনকে। 

একই সময়ে সাতক্ষীরা-৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিভুক্ত সীমান্তগুলো দিয়ে চার কেজি ৪৫১ গ্রাম সোনা জব্দ করা হয়েছে। যার বাজারমূল্য তিন কোটি ৭৬ লাখ ৩৫ হাজার ৩১৯ টাকা। 

মহেশপুর-৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিভুক্ত সীমান্তগুলো দিয়ে ৩৮ কেজি ৪০ গ্রাম সোনা জব্দ করা হয়। যার বাজারমূল্য ২৬ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৪০১ টাকা। এসব সোনা পাচারের দায়ে আটজনকে আটক করা হয়েছে।

সীমান্তে চোরাচালান রোধে বিজিবি সবসময়ই কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান খুলনা-২১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তানভীর রহমান। 

তিনি বলেন, বিজিবি অভিযান চালিয়ে সোনা জব্দ করে ও আসামীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়। এরপর এসব মামলার তদন্তভার পুলিশের ওপর বর্তায়। নেপথ্যে থাকা চোরাকারবারিকে সামনে আনবে তদন্তকারী ইউনিট। এরপরও বিজিবি সজাগ ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সোনা উদ্ধারে বেশি সাফল্য দেখানো যশোর-৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহেদ মিনহাজ সিদ্দিকী বলেন, তিনি ব্যাটালিয়নে যোগদানের পর থেকে সীমান্তজুড়ে চোরাচালান রোধে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। যে কারণে এক বছরে সীমান্তজুড়ে অভিযানে বিপুল পরিমাণ সোনা জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে গত ১৬ নভেম্বর বেনাপোলের আমড়াখালিতে তল্লাশি চালিয়ে সাড়ে ১৫ কোটি টাকা মূল্যের সাড়ে ১৬ কেজি সোনার চালান উদ্ধার ঘটনা ঈর্ষণীয়।

৫৮ বিজিবি ঝিনাইদহ মহেশপুর ব্যাটালিয়নের সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহীন আজাদ বলেন, সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান রোধে বিজিবি সদস্যরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

সাতক্ষীরা-৩৩ বিজিবির অধিনায়ক মেজর রেজা আহমেদ বলেন, চোরাচালান রোধে সাতক্ষীরা সীমান্তজুড়ে বিজিবি সবসময় সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। যে কারণে চোরাকারবারিরা এখন সাতক্ষীরা সীমান্ত রুট ব্যবহার করতে গেলেই ধরাশায়ী হচ্ছে। এ অঞ্চলে সোনা জব্দের হার অনেকাংশ কমেছে।

বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন কমান্ডার অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম আজাদ বলেন, এ অঞ্চলে রিজিয়ন কমান্ডারের সদর দপ্তর থাকায় সীমান্তগুলো দিয়ে সোনা পাচার অনেকাংশে বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে। যেসব পাচারকারী এসব সীমান্ত দিয়ে ভারতে বা ভারত থেকে বাংলাদেশে সোনা ও মাদকদ্রব্য পাচারের চেষ্টা করছে সেগুলোও অহরহ ধরা পড়ছে। নেপথ্যে থাকা রাঘববোয়ালদের শনাক্ত করতেও কাজ চলছে।

জানুয়ারি ২১, ২০২৩

সালাউদ্দীন কাজল/এডিবি/

মন্তব্য করুন: